সালাত সিরিজঃ অযুর ফরজ, সুন্নাত, মুস্তাহাব, মাকরূহসমূহ
অজুর ফরজসমুহঃ
অজুর ফরজ চারটি। পবিত্র কুরআনে সুরা মায়েদাতে আল্লাহ্ তায়ালা বলেন,
“হে মুমিনগণ! যখন তোমরা সালাতের জন্য প্রস্তুত হবে, তখন তোমরা তোমাদের মুখ মন্ডল ও দুই হাত কনুই সহ ধৌত করবে, এবং তোমাদের মাথা মাসেহ করবে, আর দুই পা গোড়ালীসহ ধৌত করবে।” [সূরা মায়িদাহঃ আয়াত-৬]
(১) মুখ মন্ডল ধৌত করা।
(২) দুই হাত কনুই সহ ধৌত করা।
(৩) মাথার চার ভাগের এক ভাগ মাসেহ করা এবং
(৪) দুই পা টাখনু সহ ধৌত করা।
বি:দ্র:-কোন ফরজ বাদ পড়লে অজু হবেনা। কিন্তু সুন্নত বাদ পড়লে অজু হয়ে যাবে তবে সুন্নতের সওয়াব থেকে মাহরুম হবে।
(১) বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম বলে অজু শুরু করা।
(২) কবজি সহ উভয় হাত তিন বার ধোয়া।
(৩) কুলি করা।
(৪) নাকে পানি দেওয়া।
(৫) মেসওয়াক করা।
(৬) সমস্ত মাথা একবার মসেহ করা।
(৭) প্রত্যেক অঙ্গ তিন বার করে ধোয়া।
(৮) কান মসেহ করা।
(৯) হাতের আঙ্গুল সমুহ খেলাল করা।
(১০) পায়ের আঙ্গূল সমুহ খেলাল করা।
(১১) ডান দিক থেকে অজু শুরু করা।
(১২) ক্বোরানে বর্নিত ধারাবাহিকতা রক্ষা করা।
(১৩) গর্দান মসেহ করা।
(১৪) অজু শুরুতে মেসওয়াক করা।
(১৫) দুই কান মসেহ করা।
(১৬) এক অঙ্গের পানি শুকানোর পুর্বেই অন্য অঙ্গ ধৌত করা।
অজুতে এমন কিছু বিষয় আছে, যেগুলো আদায় করলে সওয়াব হবে, কিন্তু আদায় না করলে কোনো গুনাহ হবে না।
♦ অজু করার সময় উঁচু স্থানে বসা, যাতে পানির ছিটা গায়ে না আসে। (আল ফিকহুল ইসলামী : ১/৩৫২)
♦ কিবলার দিকে বসে অজু করা। (আল ফিকহুল ইসলামী : ১/৩৫২)
♦ অজু করার সময় অন্যের সাহায্য না নেওয়া। (মুসনাদে আবি ইয়ালা : ১/২০০)
♦ প্রয়োজন ছাড়া কথা না বলা (আল ফিকহুল ইসলামী : ১/৩৫২)
♦ অজু করার সময় রাসুল (সা.) থেকে বর্ণিত দোয়া পড়া। (সুনানে কুবরা লিননাসায়ি, হাদিস : ৯৯০৮)
♦ নিয়ত মুখে ও অন্তরে একসঙ্গে করা। (ফতাওয়ায়ে হিন্দিয়া : ১/৮৭)
♦ উভয় কান মাসেহর সময় কানের ছিদ্রে ভেজা আঙুল প্রবেশ করানো। (আবু দাউদ, হাদিস : ১১২)
♦ প্রশস্ত আংটি নাড়াচাড়া করা। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৪৪৩)
♦ যদি আংটি প্রশস্ত না হয়, তাহলে অজু বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য তা নাড়াচাড়া করা আবশ্যক। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৪৪৩, আবু দাউদ, হাদিস : ১৪৯)
♦ নাকের ময়লা দূর করার জন্য বাঁ হাত ব্যবহার করা। (আবু দাউদ, হাদিস : ৩১)
♦ যদি মুসল্লি এমন অপারগ না হয়, যার ফলে প্রতি ওয়াক্তে অজু করা আবশ্যক, তাহলে ওয়াক্ত আসার আগে অজু করা। (ফাতাওয়ায়ে আলমগিরি : ১/১০২)
♦ অজু শেষ হওয়ার পর কিবলামুখী হয়ে এই দোয়া পাঠ করা—
‘আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওহাদাহু লা শারিকালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহু। আল্লাহুম্মাজ আলনি মিনাত তাউওয়াবিনা ওয়াজ আলনি মিনাল মুতাত্বহিহরিন।'
অর্থঃ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল। হে আল্লাহ! আমাকে তাওবাকারী ও পবিত্রতা অর্জনকারী বানিয়ে দিন। (তিরমিজি, হাদিস : ৫০)
২) পানি ব্যবহারে অত্যধিক কার্পণ্য করা। (আবু দাউদ, হাদিস : ১১৬, মুসলিম, হাদিস : ৩৫৪)
৩) মুখের ওপর জোরে পানি মারা। (কানজুল উম্মাল : ৯/৪৭৩)
৪) দুনিয়াবি কথা বলা। (ফাতাওয়ায়ে আলমগিরি : ১/৯৮)
৫) অন্যের সাহায্য নেওয়া। (মুসনাদে আবি ইয়ালা : ১/২০০) তবে অপারগ অবস্থায় অন্যের সাহায্য নেওয়ায় কোনো সমস্যা নেই। (আল মুজামুল কাবির, হাদিস : ৩৮৫৭)
৬) তিনবার মাথা মাসেহ করা এবং প্রতিবার পানিতে হাত ভেজানো। (আবু দাউদ, হাদিস : ১১৬, কানজুল উম্মাল, হাদিস : ২৭০২৪)