মেডিকেলে কোন পড়াই নাই, খালি চিল আর চিল....

★মেডিকেলে পড়ে কী কী মজা আছে?

আমি মাত্র এমবিবিএস সেকেন্ড ইয়ারের পিচ্চি। তাই সামগ্রিক মজার কথা লিখতে পারবো না।। হা হা হা!😅

যাই হোক,আমি তাও মজার অংশগুলো মজা করেই লিখতে চেষ্টা করি। আশা করি, আগের ভীতির দূর করবে!

১) মেডিকেলে কোনোওওওও সিজিপিএ নাই! বিশ্বাস করেন,কত যে শুকরিয়া করি এই সিজিপিএ না থাকার কারণে তা বলে বোঝাতে পারবো না।মানে আপনি খালি কোনোভাবে ৬০ এর কোঠাটা পার হবেন....ব্যস! পাশ!আপনাকে কেউ ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করবে না,"ভাই,আপনার সিজিপিএ টা জানি কত?"রেজাল্ট দিলে আপনার এই টেনশন করা লাগবে না,"ইশ ৩.৮+ সিজি থাকবে তো!" আপনার নাম্বারও কেউ জিজ্ঞেস করতে আসবে না.....যদি না আমার মতো কিছু ঘাপলা আত্মীয় থাকে যারা জিজ্ঞেস করে,"আচ্ছা,তোর মার্ক কেমন আসছে পরীক্ষায়?" আমিও চরম মোটা গলায় গাম্ভীর্য নিয়ে বলি,"পাশ!"
😂😂😂

২) এখানে বন্ধুদের মধ্যে পরীক্ষা নিয়ে কম্পিটিশনও থাকে না,তাই রেষারেষিও থাকে না(সাধারণত)! আরেহ,নাম্বার থাকলে তো রেষারেষি থাকবে...সবাই পাশের ঠেলায়ই বাঁচে না,আর নাম্বার কি প্রতিযোগিতা চালাবে!😉 তাই মেডিকেলে আপনি খুব ভালো বন্ধু পেতে পারেন,সত্যি বলছি!

৩) অন্য দেশের কথা জানি না,তবে বাংলাদেশের মেডিকেলে আপনি পড়াশোনা না করলেও আপনাকে কেউ খোঁটা দিতে আসবে নাঃ মাইকেল কমিটির নাম জেনে রাখুন! আমাদের দেশের মেডিকেল গুলোতে মাইকেল তাদের বলা হয় যারা পড়াশোনা কম করে।এবং মাইকেল দের শক্তি আঁতেল দের বহুগুন বেশি।এমনকি এখন এই অবস্থা,পড়াশোনা যে যত কম করতে পারে তার তত গৌরব!😂

৪) বোনস নিয়ে মজা ঃবোনস এর প্রতি সম্মান রেখে বলছি।ফার্স্ট আর সেকেন্ড ইয়ারে আমরা বোনস আর ভিসেরার সাথে এত বেশি সময় কাটায় যে আমাদের জীবনের অংগ হয়ে পড়ে এগুলো। যেমন,ফার্স্ট ইয়ারে উঠে বোনস কেনার পর তো সবই নতুন লাগে।প্রথম প্রথম অল্প-বিস্তর ভিতু দের বোনস দিয়ে ভয় দেখাতাম,কয়েকদিন পরে তো নিজেরাই ভূত সাজাসাজি শুরু করে দিলাম!😉

৫) ভিসেরা ধরার থ্রিলিং অভিজ্ঞতা! বাস্তবে হার্ট লাংগস ধরতে যে কেমন লাগে তা মেডিকেলে না পড়লে বোঝা মুশকিল! প্রথম দিন যেদিন ধরেছিলাম,পুরা হাতই শিরশির করা শুরু করেছিল।একজন মানুষের ব্রেন....তার পুরো জীবনটার ধারক আপনার হাতে থাকবে,ভাবতেই কেমন লাগে না!ব্রেনের একেকটা ক্ষুদ্রাংশের পরিবর্তনে পুরো জীবনের গঠনই বদলে যাবে....এবং সেই অমূল্য জিনিসটি আপনার হাতে!

৬)প্রক্সি বিদ্যা মহান বিদ্যা,পড়ুক না পড়ুক ধরা 😉 ঃ হা হা হা! সত্যি কথাই বলছি...প্রক্সির যে ঝড় নামে লেকচার ক্লাসে তা অন্য কোথাও দেখতে পাওয়া মুশকিল।একবার এক ছেলে ক্লাস না করে সুযোগ বুঝে কলেজ থেকে পার হওয়ার চেষ্টায়,তো বের হওয়ার মুখে ম্যাডামের সাথে দেখা।" এই ছেলে,তুমি কোথাও যাচ্ছ!" তো সেই বান্দাও কম যায় না,তৎক্ষনাৎ "ম্যাডাম,আমার মারাত্মক পেটে সমস্যা,একটু বাথরুমে যাচ্ছি!" ম্যাডাম আর কি বলবে,সেই ছেলেকে যেতে দিল।তো সেই ছেলের পেট আর ১ ঘন্টায় ঠিক হলো না,ম্যাডাম ক্লাস শেষে এটেন্ডেন্স গুনে বলল, "যাক, 'ক' বাথরুম থেকেও ক্লাসটা করতে পেরেছে জেনে ভালো লাগছে!"😂😂😂

৭) বকাবকি করলে মন খারাপের দিন শেষ ঃ কোন ক্লাসে কাউকে নাম ধরে চরম বকা দিলে ভাবছেন মন খারাপ হয় আমাদের কারো!কাভি নেহি! একবার ক্লাসে একটা ছেলেকে আমাদের এক ম্যাডাম বলল," এই ছেলে তুমি পাশ করেছ গত কার্ডে?""জি ম্যাডাম" "মানে কি,তুমি পাশ করলা কিভাবে,সত্যি সত্যি বলো পাশ করেছ কিনা?" ওই ছেলে আরো জোরে জবাব দিল,"জি ম্যাডাম। " ভাবছেন ছেলেটা অনেক অপমানিত হলো? এবার ক্লাসের পরবর্তী ঘটনা,গ্রুপে সেই ছেলের বর্ননা,"জানিস আজকে কটকটি আমাকে জিজ্ঞেস করল,"এইইইই ছেলে...হেইইই ছেএএএলেএএ...হ্যায়ায়াইইইই ছেলে,পাশ করেছ তুমি!" আমিও বলে দিয়েছি,"ছিপ যখন ফেলেছি,মাছ আমি ধরবই,পরীক্ষা দিয়েছি,পাশ আমি করবই!"😂😂😂

ভাবছেন এত কথার ঠেসা খেয়ে আমরা চুপচাপ বসে থাকিঃ টিচার দের নাম হয়ে যায় "কটকটি ম্যাম,জ্বালিম স্যার!" যদিও এসব কথা বাইরে আসা বারণ!😛

৮) আপনি কি ক্লাসে ঘুমানোর অনুভূতি পেতে চান ঃ মেডিকেল আপনার জন্য উত্তম জায়গা। লেকচার ক্লাসে অর্ধেকের বেশি স্টুডেন্ট তাদের ঘুম চালায়।ক্লাসে ফার্স্ট বেঞ্চে বসে মুখ হা করে ঘুমাচ্ছে,এই দৃশ্য অন্য কোথাও দেখা যায় নাকি শুনি নি।

৯) কলেজ ক্যাম্পাস মজা ঃ কলেজে কিন্তু সত্যি মজার খোরাকের অভাব মেটে না।যতদিন ধরে ক্যাম্পাস আছে,প্রায় প্রতি মাসেই কলেজে কোনো না কোন প্রোগ্রাম হচ্ছে।একটা প্রোগ্রাম হয় তো আমরা দিকদুনিয়া ভুলে গিয়ে দেড় টন মেকআপ করে চলে যায় প্রোগ্রামে।জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা!😅

১০) আজব ধরনের 'সম্মানিত' ব্যক্তি হয়ে যাবেন এপ্রন গায়ে দেওয়ার পর থেকেঃ কথায় আছে না,সূর্যের চেয়ে বালির উত্তাপ বেশি থাকে,ওইরকম ডাক্তারদের চেয়ে মেডিকেল স্টুডেন্টর সম্মান বেশি থাকে!একবার আমি কলেজ শেষে এপ্রন পড়ে এক হাসপাতালে একজন স্যারের কাছে সিরিয়াল দিতে গেলাম। রিসিপশনে এমন খাতির করা শুরু করল,২০ বছরের জীবদ্দশায় এমন খাতির পেয়েছি নাকি সন্দেহ!

১১) ট্যুর ঘোরাঘুরি হুল্লোড় এগুলো?ঃ প্রতি বৃহস্পতিবার হয় চাঁদরাত,সারা সপ্তাহ যেমনই কাটুক,সামনের সপ্তাহের চিন্তা ভাবনা ভুলে যাওয়া যায় এই দিনে।বৃহস্পতিবার হচ্ছে রেস্টুরেন্ট বার।শনিবারে বড় সড় কোনো পরীক্ষা না থাকলে ছোট বড় গ্রুপ ধরে বাইরে ঘুরতে চলে যায়।এগুলো না থাকলে আবার কলেজ লাইফ জমে নাকি!

12) হোস্টেলের মজার কথা আলাদা করে নাই বা বললাম! 😅😅বার্থডে করা,একসাথে খাওয়া,চুটিয়ে আড্ডা,ক্লাসের খুনসুটি এগুলোর তুলনাও হয় না!

আমাদের জীবন বেশির ভাগ ভার্সিটি পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের মতোই।শুধু নিয়মিত পরীক্ষা গুলোর জের ধরে আমাদের অসামাজিক বানিয়ে দেওয়া চরম চক্রান্ত! 😂

আমি খালি ফার্স্ট,সেকেন্ড ইয়ারের অভিজ্ঞতা গুলো লিখেছি।আরো অনেক ওয়ার্ড,ওটি নিয়ে মজা হওয়া বাকি।সেগুলো বাড়বে বই কমবে না।বাকিগুলো বছর বছর আপডেট করে দিতে পারি!😁

ধন্যবাদ এই বিশাল রচনা পড়ার জন্য!


Sreoshy Saha
Mymensingh Medical College, MBBS(2024)
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url