মানুষের নিজের একটা ব্র্যান্ড হইয়া ওঠা জরুরি!!!
এক টাইমে ব্র্যান্ডের জিনিসপত্র ছাড়া পড়তাম না। আমি কোনো জামা পইড়া ব্যাচে গেসি মানে অইটা লারিভ বা আড়ং এর এবং ওইটার দাম মিনিমাম ৩০০০ টাকা। এবং প্রকাশ না করলেও এটা নিয়া আমার মধ্যে একটা সুপিরিয়র কম্পলেক্স কাজ করতো। মানুষের ৫০০-৬০০ টাকার জামা কাপড় জাজ করতাম। তবে এটা নিয়ে খুব কম ভাবতাম যে কার টাকায় এসব "ফুটানি" করতেসি।
তো, যার টাকা, মানে আমার বাপ, সে দেখলাম একদিন বায়তুল মোকাররম এর সামনে থেকে ১৫০টাকার একটা পাঞ্জাবী কিনা আনলো ঈদে পড়ার জন্য। আমি আম্মু তো খুব রাগ, কেন আড়ং থেকে পাঞ্জাবি কিনে নাই এবার। আমার বাপে পাত্তাই দিলোনা! তো যথারীতি এটা পইড়াই ঈদের দিন নামাজ পড়তে গেলো। এবং নামাজের পর বাসায় কিছু আব্বুর কিছু বন্ধু আর এলাকার আংকেল আসলো দেখা সাক্ষাতের জন্য।
এরা কথায় কথায় বলতেসে আমার বাপেরে, "ভাই পাঞ্জাবিটা খুবি সুন্দর। কই থেকে কিনসেন?" আমার বাপে হাসে, কিছু কয়না।
আরেক আংকেল কয়, "দেইখাই লাগতাসে দামী পাঞ্জাবী, পাঁচ হাজার টাকার নিচে তো দাম হইবোইনা৷ গলায় আবার কাজ করা", আমার বাপে এবার আমার আর মায়ের দিকে তাকায় হাসে।
মানুষেরা বিশ্বাসই করলোনা এডা ফুটপাতের পাঞ্জাবী।
ওইদিন বুঝলাম ব্র্যান্ডের জামা জুতায় কোনো ইমপ্যাক্ট পড়েনা মানুষের ওপর, মানুষের নিজের একটা ব্র্যান্ড হইয়া ওঠা জরুরি। নিজেরে ততোটুকু ওপরে নিয়া যাওয়া উচিত যেখানে মানুষ আমার ভ্যালু দিয়া আমার জাজ করবো এর আগে বাপের টাকায় এসব জামা জুতা ব্যাগ ঘড়ি নিয়া ফুটানি করা অহেতুক।
লেখা: সিনথিয়া