১৭১/১৭২!!!
এমবিবিএসের সময় আমি খুবই সাধারণ মানের ছাত্রী ছিলাম। কোন প্রফেই আমার কোন অনার্স বা প্লেস ছিলনা, পাশ করে গিয়েছি খালি পরীক্ষাগুলোতে। ভাইভা পরীক্ষা ভাল দিলেও রিটেনে আমি সবসময় কম মার্কস পেতাম। এরকম সাধারণ মানের রেজাল্টের কারণে অন্যান্য মানুষেরা এমনকি আমি নিজেও নিজেকে নিয়ে কখনো খুব একটা উচ্চাশা করিনি। এরকম একাডেমিক রেকর্ড থাকার কারণে এমআরসিপি পরীক্ষায় আমার ফলাফলে আমি খুবই বিস্মিত হই। আমার স্কোর ছিল ১৭২ নাম্বারের মধ্যে ১৭১, যা এখন পর্যন্ত বিশ্বে সর্বোচ্চ। খুবই গর্বিত হই যখন দেখি এমআরসিপি পরীক্ষায় সকল ক্যান্ডিডেটদের (ইন্টারন্যাশনাল ও ব্রিটিশ) মধ্যে সর্বোচ্চ স্কোর একজন বাংলাদেশীর।
এমআরসিপি পরীক্ষা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়াটা আমার জন্য সহজ ছিলনা। একে তো এটা পৃথিবীর সবচেয়ে প্রতিযোগীতাপূর্ণ একটি, দ্বিতীয়ত বাংলাদেশে এটার স্বীকৃতির সীমাবদ্ধতা আছে। এছাড়াও এমআরসিপির এন্ট্রি ফি অনেক বেশি যা বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে অনেকের পক্ষেই বহন করা সম্ভব হয়ে ওঠেনা। আমার ইন্টার্নশিপ শেষ হবার কিছুদিন পরেই এফসিপিএস পার্ট ওয়ান পাশ হয়ে যায়। ট্রেনিংয়ের জন্য আমি বারডেমকে বেছে নেই। বারডেম প্রাইভেট হাসপাতাল হলেও এখানে সরকারী হাসপাতালের মতই অনেক রোগী দেখার সুযোগ আছে। তাছাড়া বারডেমে এফসিপিএস ট্রেইনিদের বেতন দেয়া হয়,যা আমার জানামতে আর কোন হাসপাতালে দেয়া হয়না।
আমি ২০১৬ তে এমআরসিপি পার্ট ওয়ান দেই, পরের বছর পার্ট টু। এই দুই পরীক্ষাতেও আমি খুবই সাধারণ মার্কস পাই। পার্ট টু পাশের এক বছরের মধ্যে আমি ফাইনাল পার্ট(যেটা পেসেস নামে পরিচিত) দেয়ার সিদ্ধান্ত নেই। আমাকে অনেকেই নিরুৎসাহিত করে কেননা এত কম সময়ের প্রস্তুতিতে পেসেস পাশ করা খুবই দুরূহ। কিন্তু আমি ঝুঁকিটা নেই। বছরের শুরুতে এফসিপিএসের বাকি ট্রেনিংয়ের জন্য আমি ঢাকা মেডিকেলে চলে আসি। পেসেস পরীক্ষা পুরোটাই ক্লিনিকাল, তাই প্রস্তুতির জন্য এমন কোন ধরণের রোগী হয়তো নেই, যা আমাকে দেখতে হয়নি। গত কয়েক মাসে এক মুহূর্ত সময় ও নষ্ট করিনি, অসম্ভব পরিশ্রম করেছি। পেসেস যখন দিতে চাই, তখন একটি কেস ও আমার অপরিচিত লাগেনি। পরীক্ষকেরা আমার একটিমাত্র মার্কস কাটার সুযোগ পায়। পরীক্ষার পর সবাই আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল আমি কোন দেশ থেকে এসেছি। অন্যদের সামনে নিজের দেশকে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরার চাইতে অধিক গর্বের আর কিছু নেই।
মেডিকেলে আন্ডারগ্র্যাজুয়েশন আর পোস্টগ্র্যাজুয়েশনের মধ্যে আকাশ পাতাল তফাত। কেউ যদি আন্ডারগ্র্যাডে খুব একটা ভাল ফলাফল না করে তার মানে যে সে ভবিষ্যতেও কিছু পারবেনা ব্যাপারটা মোটেই তেমন নয়। আমার নিজস্ব অভিজ্ঞতা বলে মেইন টেক্সটবুক পড়ার কোন বিকল্প নেই। টেক্সটবুকের ওপর ভালো দখল থাকলে পোস্টগ্র্যাজুয়েশনে ভালো ফলাফল করা সহজতর হয়। এখানে যে কেউ যে কোন সময়ে ভাল করতে পারে। দরকার শুধু ইচ্ছাশক্তি ও পরিশ্রম করবার মানসিকতার।
Dr.Elena Haque
DMC K-65
Member of the Royal College of Physicians, UK
Specialist, Medicine,
Bangladesh Specialised Hospital.
© Humans of DMC
