বই পড়া
ইংল্যান্ডে সাত বছরের একটি বাচ্চাকে প্রতি সপ্তাহে তার স্কুলের লাইব্রেরী থেকে একটি করে বই নিয়ে পড়তে হয় । বছরে তাকে ত্রিশ থেকে চল্লিশটি এমন বই পড়তে হয় পাঠ্যসূচির বাহিরে । দশ বছরের মধ্যে জানে কে তার প্রিয় লেখক, কোন ধরনের বই সে পছন্দ করে, তার প্রিয় বইগুলোর নাম কি ।
আমাদের দেশের একটি বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীকে জিজ্ঞেস করলে দেখা যাবে - সারা জীবনে ততদিনে ত্রিশ খানা বই পড়েছে কিনা সন্দেহ । পড়লেও দেখা যাবে দেশি বলদ শ্রেণীর কিছু লেখকের কিছু গল্পের বই হয়তো পড়েছে এই পর্যন্তই । পঁচিশ বছরের যুবককে প্রিয় লেখকের নাম বলতে বললে কলকাতার এক হালি অখাদ্য লেখকের নাম, দেশি আঙ্গুলে গোনা কয়েকটা পাইরেসি লেখকের নাম বলতে পারবে ।
তারচেয়ে বলদ আমাদের অভিভাবক শ্রেণী । তারা পারে না যে তাদের সন্তানদের শরীরের সব ফুটা দিয়ে পাঠ্য বইয়ের অক্ষর গুলোই কেবল ঢুকাতে । স্কুলে যাও, কোচিংয়ে যাও, আবার দিনশেষে প্রাইভেট টিউটরের দিকে তাকিয়ে কাটিয়ে দাও । সারাদিন বাচ্চারা এখন এই করেই কাটায় । এরা সাত চারা খেলা কি জানে না, অপেনটি বাইস্কো .. চুলটানা বিবিয়ানা, সাহেব বিবির বৈঠকখানা, খেলার কথা শোনে নি, ওরা ডাঙ্গুলি দেখেনি কখনও, ঘুড়ির সুতোয় মাঞ্জা মারা কাকে বলে জানে না ।
এই করে করে আমাদের বীর্যবান বলদ বাবা মায়ের বলদ সন্তানেরা ২৫ বছর পড়াশোনা করে । পরের পাঁচ বছর আবার পড়তে বসে দশম শ্রেণীর উপপাদ্য, পিথাগোরাসের সূত্র, গাম্ভীর্যের সন্ধি বিচ্ছেদ মুখস্ত করতে, কারণ জাতীয় চোর ডাকাত ক্যাডার বিসিএস পরীক্ষায় পাশ করতে হবে পাঁচ লক্ষ পরীক্ষার্থী থেকে দুই হাজার জনকে ।
একটা জাতির পড়ার দুটো ভালো বই নেই, কিন্তু একটি বিশাল বইমেলা আছে, যেখানে একশো কোটি টাকার বইয়ের নামে কিছু কাগজ বিক্রি হয় । একটা জাতির পিপঁড়ার মতো কতগুলো মাথা আছে, দেহ আছে, বিদেশে কোটি অদক্ষ শ্রমিকের উপার্জনের বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা আছে, কেবল কোথাও কিছু মানুষ নেই ।
Opurbo Chowdhury
© অপূর্ব চৌধুরী । চিকিৎসক, কথাসাহিত্যিক ও বিজ্ঞান লেখক । জন্ম বাংলাদেশ, বসবাস ইংল্যান্ড । গ্রন্থ ৯ । উল্লেখযোগ্য বই : অনুকথা, জীবন গদ্য, ভাইরাস ও শরীর ।