ইলম(জ্ঞান)-২

কুরআনের আলোকে জ্ঞানার্জন

এখানে ইসলামের জ্ঞানার্জন সম্পর্কে আল কুরআন থেকে মহান আল্লাহর কিছু বাণী উল্লেখ করছি~

১.সুতরাং জেনে রেখ, আল্লাহ ব্যতীত সত্য কোন মা‘বূদ নেই। (মুহাম্মাদ-৪৭ আয়াত: ১৯)

২.তিনি আরো বলেন, ‘পড়, তোমার প্রতিপালকের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেন মানুষকে রক্তপিন্ড হতে। পড় এবং তোমার প্রতিপালক মহা মহিমান্বিত। যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে (এমন জ্ঞান) যা সে জানতো না। (আলাক্ব-৯৬ আয়াত: ১-৫)

৩.মানুষ শিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে নিজের মর্যাদা বৃদ্ধি করতে পারে। এজন্য মহান আল্লাহ যারা জানে এবং যারা জানে না তাদের মধ্যে পার্থক্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘বল, যারা জানে এবং যারা জানে না তারা কি সমান’? (যুমার-৩৯ আয়াত: ৯)

৪.আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে জ্ঞানীরাই তাঁকে ভয় করে; আল্লাহ পরক্রমশালী ক্ষমাশীল। (ফাতির-৩৫ আয়াত: ২৮)

৫.তিনি আরো বলেন, আল্লাহ সাক্ষ্য প্রদান করেন যে, নিশ্চয়ই তিনি ব্যতীত কোন সত্য মা‘বূদ নেই এবং ফেরেশতাগণ, ন্যায়নিষ্ঠ বিদ্বানগণও (সাক্ষ্য প্রদান করেন) তিনি ব্যতীত অন্য কোন সত্য মা‘বূদ নেই। তিনি পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়। (ইমরান-৩ আয়াত: ১৮)

 ৬.সুতরাং এমন কেন করা হয় না যে, তাদের প্রত্যেকটি বড় দল হতে এক একটি ছোট দল বহির্গত হয়, যাতে তারা দ্বীনী জ্ঞান অর্জন করতে পারে, আর যাতে তারা নিজ কওমকে (নাফরমানী হতে) ভয় প্রদর্শন করে, যখন তারা ওদের নিকট প্রত্যাবর্তন করে, যেন তারা সতর্ক হয়। (তাওবাহ-৯ আয়াত: ১২২)

৭.তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদেরকে মর্যাদায় উন্নত করবেন; তোমরা যা কর আল্লাহ সে সম্পর্কে পূর্ণ অবহিত। (মুজাদালাহ-৫৮ আয়াত: ১১)

৮.বলো : প্রভু! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দাও। (তোয়াহা-২০ আয়াত: ১১৪)

৯.যদি তোমরা না জানো, তবে জ্ঞানীদের জিজ্ঞেস করে জেনে নাও। (আন নহল -১৬ আয়াত: ৪৩)

১০.আল্লাহ তোমাদের পরিবর্তে তাকে (তালুতকে) শাসক মনোনীত করেছেন, কারণ তাকে তিনি অঢেল মানসিক (জ্ঞানগত) ও শারীরিক যোগ্যতা দান করেছেন। (বাকারা-২ আয়াত: ২৪৭)

১১.আল্লাহকে সেভাবে স্মরণ করো, যেভাবে তিনি তোমাদের শিক্ষা দিয়েছেন। (বাকারা-২ আয়াত: ২৩৯)

১২.আল্লাহ অতি প্রশস্ত উদার মহাজ্ঞানী। তিনি যাকে চান জ্ঞান দান করেন। আর যাকে জ্ঞান দেয়া হয়, সে তো বিরাট কল্যাণের অধিকারী। শিক্ষা লাভ করে তো কেবল তারাই যারা বুদ্ধিমান ও জ্ঞানী। (বাকারা-২ আয়াত: ২৬৮-২৬৯)

১৩.যেমন আমি তোমাদের থেকেই তোমাদের কাছে একজন রাসূল পাঠিয়েছি। সে তোমাদেরকে আমার আয়াত পড়ে শুনায়, তোমাদের জীবনকে পরিশুদ্ধ ও বিকশিত করে তোলে, তোমাদের আল কিতাব ও হিকমাহ (কর্মকৌশল) শিক্ষা দেয়, তোমাদের আরো শিক্ষা দেয় তোমরা যা কিছু জানো না সেগুলো। (বাকারা-২ আয়াত: ১৫১)

১৪.এমন কোনো জিনিসের পিছে লেগে পড়ো না, যে বিষয়ে তোমাদের জ্ঞান নেই। (ইসরাঈল-১৭ আয়াত: ৩৬)

১৫.আল কুরআন পাঠ করো তরতিলের সাথে-অর্থাৎ বুঝে বুঝে ভাব প্রকাশযোগ্য ভঙ্গিতে। (মুজ্জামিল-৭৩: আয়াত ৪)

১৬.যখন কুরআন পাঠ করবে, তখন অভিশপ্ত শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করে পাঠ শুরু করবে। (আন নহল-১৬ আয়াত: ৯৮)

১৭.আল্লাহর বান্দাহদের মধ্যে কেবল জ্ঞানসম্পন্ন লোকেরাই তাঁকে ভয় করে। (ফাতির-৩৫ আয়াত: ২৮)

১৮.কিন্তু জ্ঞানের অধিকারী লোকেরা বললো : তোমাদের অবস্থার জন্যে দুঃখ হয়! যে ব্যক্তি ঈমান আনে এবং আমলে সালেহ করে, তার জন্যে তো আল্লাহর পুরস্কারই উত্তম। (কাসাস-২৮ আয়াত: ৮০)

১৯.এবং আমি এই কুরআনকে পৃথক পৃথক করে নাযিল করেছি যেন আপনি উহা মানুষের সম্মুখে থেমে থেমে পড়তে পারেন, আর আমি উহাকে নাযিল করার সময়ও (অবস্থামত) ক্রমে ক্রমে নাযিল করেছি। (যেন উহা সহজ ও সুষ্পষ্টভাবে বোধগম্য হয়) (বনী ইসরাইল-১৭ আয়াত: ১০৬)

২০.আমি উহাকে এক বিশেষ দারায় আলাদা অংশে সজ্জিত করেছি। (ফুরকান-২৫ আয়াত: ৩২)

২১.উহারা কি দাবী করে যে কুরআন (আপনার) বানানো? আপনি বলুন, তোমরা যদি তোমাদের দাবীতে সত্যবাদী হও তাহলে একটি সূরা অন্তত: তৈরী করে নিয়ে এস। আর এ ব্যাপারে আল্লাহ ব্যতীত যাদের সাহায্য প্রয়োজন বোধ কর, সাধ্যমত তাদেরকেও ডেকে নাও। (ইউনুস-১০ আয়াত : ৩৮)

২২.নিশ্চয়ই কুরআন আমিই নাজিল করেছি। আর অবশ্যই উহার হেফাজতের দায়িত্ব আমারই। (হিজর-১৫ আয়াত: ৯)

২৩.হে রাসূল দ্রুত কুরআন আয়ত্ত করার নিমিত্তে আপনি আপনার জিহ্বা সঞ্চালন করবেন না। কুরআন সংরক্ষণ করা এবং উহা পাঠ করিয়ে দেয়া আমার দায়িত্ব। সুতরাং আমি যখন (জিব্রাঈলের জবানে) উহা পাঠ করি, তখন আপনি উহা অনুসরণ করুণ। অত:পর উহা ব্যাখ্যাদানও আমার জিম্মাদারী। (কিয়ামাহ-৭৫ আয়াত: ১৬ থেকে ১৯)
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url