আল্লাহর সৃষ্টি ও মহাজগৎ নিয়ে চিন্তা ফিকির
আবু সা’লাবা নামে একজন সাহাবি ছিলেন। তিনি প্রতি রাতে ঘর থেকে বের হতেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা-ফিকির করতেন। তারপর বাসায় ফিরে এসে (আল্লাহর শুকরিয়া ও বড়ত্ব প্রকাশে) সিজদায় লুটিয়ে পড়তেন। দারুণ ব্যাপার হলো, সিজদা অবস্থাতেই তাঁর মৃত্যু হয়েছিলো! (রাদিয়াল্লাহু আনহু)
[হাফিয ইবনু হাজার, আল ইসাবাহ ফি তাময়িযিস সাহাবাহ: ৪/৩০]
আল্লামা আবদুর রহমান আস সা’দি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘আল্লাহর সৃষ্টি ও মহাজগৎ নিয়ে চিন্তা করা ওলিগণের (আল্লাহর বন্ধুদের) বিশেষ গুণ, যারা আল্লাহর প্রকৃত পরিচয় জানেন।’ [তাইসিরুল কারিমির রাহমান: ১/২৭০]
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা বলেন—
إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلَافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ لَآيَاتٍ لِّأُولِي الْأَلْبَاب
الَّذِينَ يَذْكُرُونَ اللَّهَ قِيَامًا وَقُعُودًا وَعَلَىٰ جُنُوبِهِمْ وَيَتَفَكَّرُونَ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ رَبَّنَا مَا خَلَقْتَ هَٰذَا بَاطِلًا سُبْحَانَكَ فَقِنَا عَذَابَ النَّار
‘‘আসমানসমূহ ও জমিনের সৃষ্টিতে এবং রাত ও দিনের পরিবর্তনে বোধসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য নিদর্শনাবলী রয়েছে—যারা দাঁড়িয়ে, বসে ও শুয়ে আল্লাহর স্মরণ করে এবং আসমানসমূহ ও জমিনের সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তা করে, আর বলে ‘হে আমাদের রব! আপনি এগুলো অনর্থক সৃষ্টি করেননি; আপনি পবিত্র; অতএব, আপনি আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি হতে রক্ষা করুন’।’’ [সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৯০-১৯১]
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘আজ রাতে আমার উপর একটি আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে; যে ব্যক্তি তা তিলাওয়াত করলো, কিন্তু চিন্তা-গবেষণা করলো না, তার জন্য ধ্বংস। তারপর তিনি উপরের আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন।’’ [ইমাম ইবনু হিব্বান, আস-সহিহ: ৬২০; হাদিসটি হাসান]
©️ Tasbeeh