মঙ্গলশোভাযাত্রা ও একটি পর্যালোচনা!
#সমালোচনা
আমি একজন সংস্কৃতিকর্মী বা বাঙালী হিসেবে যতটুকু সত্য ঠিক ততটুকু সত্য আমি একজন মুসলমান। কিছু প্রশ্ন আমার মস্তিষ্ককে এলোমেলো করে দিচ্ছে..?
১. পহেলা বৈশাখে ১৯৮৯ সালে স্বৈরশাসকের বিরোধী আনন্দশোভা যাত্রা পরে যেটি ১৯৯৬ সালে পরিবর্তিত হয়ে মঙ্গলশোভাযাত্রা হয়েছে। বর্তমানে ২০২৩ সালে এসে কি একই অবস্থানে আছে...? নাকি বিকৃত হয়েছে..?
১৯৮৯ ও ২০১৯ সালে ছবিটি দুই বিশ্লেষণ করে বলবেন (প্রথম ছবিটি ইউকিপিয়া থেকে নেওয়া)।
২. বিবিসির এক প্রতিবেদনে তখনকার সময় আনন্দ শোভাযাত্রার অংশ নেওয়া এক শিক্ষক বলেছিলেন..
লোকসংস্কৃতির মধ্যে ধর্মনিরপেক্ষ উপাদানগুলো বেছে নেয়া হয়েছিল। আমাদের সোনারগাঁয়ের লোকজ খেলনা পুতুল, ময়মনসিংহের ট্যাপা পুতুল, নকঁশি পাখা, যাত্রার ঘোড়া এসব নেয়া হয়েছিল"। তাহলে এখনো কি শুধু এগুলো আছে নাকি এগুলোর পাশাপাশি বিকৃত করে অন্য কিছু যুক্ত করা হয়েছে?
৩.প্রতিবেদন এ কথা বলা হয়েছে যে, এটির নাম মঙ্গলশোভাযাত্রা দেওয়ারই কথা ছিলো কিন্তু ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে বা সাম্প্রদায়িকতার জন্য আনন্দশোভা যাত্রা দেওয়া হয়েছিল। তারমানে উনার বক্তব্য দ্বারা কি সুস্পষ্টভাবে বুঝা যাচ্ছে না "আনন্দশোভাযাত্রা" শব্দটি ছিল অসাম্প্রদায়িক..! তাহলে এখন প্রশ্ন হল:- মঙ্গলশোভাযাত্রা শব্দটি কিভাবে অসম্প্রদায়িক হয়...?
বিবিসি নিউজ লিংক:-
https://www.google.com/amp/s/www.bbc.com/bengali/news-39579890.amp
শুরু থেকেই এটি ধর্মীয় বির্তক রয়েছে।
৪. ২০১৯ সালে মঙ্গলবার শোভাযাত্রার প্রতিকীগুলো কোনোভাবেই ইসলাম সমর্থন করে না। কিন্তু সনাতন ধর্মালম্বীদের কোনো বাঁধা নিষেধ আছে বলে মনে হয় না। যার কারণে মুসলাম ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের জন্য আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রতিবাদ সরূপ অনেক বলেছেন মৌলবাদীদের ঠেকাতে হবে। বাংলাদেশে বসবাসরত ৯৫% মুসলমান সেটি সমর্থন করে না। তাহলে ৯৫% মুসলমান কি মৌলবাদী...? প্রায় সিংহভাগ সনাতনধর্মালম্বী মঙ্গলশোভাযাত্রার পক্ষে আছেন, কারণ সেটি তাদের কাছে বাঙালীয়ানার সাথে সাথে ধর্মীয়ও মিল আছে। তাহলে কি এটি অসাম্প্রদায়িক হবে..?
৫. আইনী নোটিশকে বিদ্রুপ করে অনেক সনাতন ভাইবোনরা মঙ্গলবারকে জঙ্গলবার, ঢাকেশ্বরীকে তেতুলপুর করা ইত্যাদি বলেছেন। বিষয়টাকে কি উস্কানিমূলক হচ্ছে না.?
আইনি নোটিশে মঙ্গল শব্দের সাথে মূর্তি বা ভাষ্কর্যের কথাও উল্লেখ আছে। আসলেই কি আপনার মাঝে অসাম্প্রদায়িক চেতনা কাজ করছে..?
৬. ৪র্থ প্রশ্নের উত্তরে আসবে এটি ধর্মীয় নয় এটি বাঙালিয়ানা। তাহলে বাঙালিয়ানার ডেফিনেশন জানা দরকার। বাংলা ভাষাভাষির লোকজনদের ধর্মীয় ভিত্তিতে আলাদা না করে কোনো আচার অনুষ্ঠান দিয়ে হিন্দু,মুসলমান, বৌদ্ধ খ্রিষ্টান সবাইকে যদি একসূত্রে গাঁথা যায় তাহলে সেটি বাঙালিয়ানা বা বাঙালি সংস্কৃতি। যেমন :- নববর্ষে পান্তাভাত খাওযা,মেলায় যাওয়া,হাল খাতার মিষ্টি খাওয়া, মাটির গানে মিশে যাওয়া এসব বাঙালিয়ানা। সবাই মিলে বিজয় উৎসব করি সেটি বাঙালীয়ানা। পিঠা সময় পিঠা বানিয়ে খাওয়াটা বাঙালিয়ানা। নবর্বষ, হেমন্তের নবান্না উৎসবসহ আর অনেক উৎসব বাঙালিয়ানা । কিন্তু ইদুল আযাহা বা ইদুল ফিতর, দূর্গাপূজা, বুদ্ধপূর্ণিমা, খ্রিস্ট্রানদেন বড়দিন বাঙালিয়ানা নয়। এটি য়ার যার ধর্মীয় উৎসব বাঙালীয়ানা উৎসব নয়। কারণ সনাতনরা যেমন মুসলমানের গরু কুরবানীতে অংশ নিবে না ঠিক তেমনি প্রতিমা বিসজর্নে মুসলাম না যাবে না। পিঠা সর্বজনীন কিন্তু গরুমাংস দিয়ে পিঠা সর্বজনীন না গরুর মাংসের পিঠা করলে যেমন সনাতনরা গ্রহন করবে না ঠিক গোবর জলের পবিত্র হওয়া জিনিস মুসলামানে গ্রহণ করবে না।
তাহলে সনাতনী মূর্তি ভাস্কর্য নিয়ে মুসলাম মঙ্গলশোভাযাত্রায় অংশ গ্রহন করবে কেনো...?
(দূর্গাপুজার আগে দেখবেন "সার্বজনীন" লেখা হয় "সর্বজনীন" লেখা হয় না। গুগুলে সার্চ দিয়ে সার্বজনীন ও সর্বজনীন এর পার্থক্য বুঝে নিবেন)
৭. ধরেন মঙ্গলশোভা যাত্রায় মসজিদের ছবি থাকলো, সনাতনী মূর্তি থাকলো, বৌদ্ধ মূর্তি থাকলে, খৃস্টানদের প্রতিকী থাকলো??? তাহলে কেমন হয়।
সবগুলো কি একজায়গায় করা সম্ভব..?
মসজিদে মঙ্গলের জন্য যাওয়া হয় তো।
একতরফা বিকৃত কোনো কিছু কি অসাম্প্রদায়িক হয়?
৮. ধর্মীয় মতবিরোধ নিয়ে বা ধাঙ্গা নিয়ে বহুবার ক্ষমতার পতন হয়েছে। তাহলে মঙ্গলশোভা যাত্রা কি কোনো নতুন ইস্যু..?
৯. মঙ্গলশোভাযাত্রা ছাড়া কি নববর্ষ উৎযাপন করা যায় না.? কারণ বাঙালী নববর্ষে উৎযাপনের ইতিহাস হাজার বছরের কিন্তু মঙ্গলশোভা যাত্রা ৩০ বছরে। কেন তাহলে মঙ্গলশোভা যাত্রাদিয়ে ভেদাভেদ তেরী করবো.?
১০. ভেদাভেদ ভুলে মঙ্গলবার শোভাযাত্রাকে বন্ধ রেখে কিংবা ধর্মীয় অনুভূতি আঘাত হানে এমন কিছুবাদ দিয়ে, বাকি বাঙালিয়ানা দিয়ে মিলেমিশে একসাথে কি সর্বজননীভাবে পালন করা যায় না?
কলমে- হাবিব খোকন।
তথ্যসূত্র:-
* জাতীয় পত্রিকা
* ইউকোপিডিয়া