রমাদান ইফেক্ট!
গাজীপুর চৌরাস্তায় বাস থামলো ইফতারের জন্য।বাস থেকে নেমেই দেখলাম সব দোকানিরা ডেকে ডেকে বলছে, এই যে ভাই, সব গরম গরম, খালি পাঁচ টাকা পিস।
আমি একটা জুসের বোতল হাতে ঘুরছি। কি কিনবো কিছুই বুঝতে পারছি না। কিছু কেনার আগেই আজান পড়ে গেলো। মুহূর্তেই পালটে গেলো সব ব্যবসায়ী মানুষগুলো।
এক ইফতার ব্যবসায়ী ডাকাডাকি বন্ধ করে কিছু বুট মুড়ি মাখছে আর বলছে, ভাই যারা যারা এখনো কিছু
কিনতে পারেন নাই তারা এখান থেকে খাওয়া শুরু করে দিন।
অথচ এই লোকটাই দুই মিনিট আগে একটা বেগুনিও কাউকে ফ্রি দেয়নি!
লেবুর শরবত বিক্রেতা ছেলেটাও ডেকে ডেকে বলছে, রোজাদার ভাইয়েরা এখান থেকে টাণ্ডা পানি খান, টেকা লাগবো না। আমি অবাক হয়ে সব দেখছি। এর মধ্যে আমার পিঠে হাত দিয়ে একজন বললো,
- ভাই খাইছেন কিছু?
আমি থতমত খেয়ে বললাম,
- এই তো ভাই জুস খাচ্ছি।
- আরে ভাই মুড়ি মাখানো আছে, খালি গিলেন, ওই ভাইরে ঠাণ্ডা পানি দে।
- দোকানের লোক কে ভাই?
- আরে ভাই খান তো। দোকানের লোক৷আমিই।
জোর করে আমাকে ইফতারে বসিয়ে তিনি আরো মানুষকে ডাকতে চলে গেলেন।
একটা দূরপাল্লার বাস এসে থামছে। যাত্রীরা বাস থেকে নামা মাত্রই লোকটা ধরে ধরে নিয়ে আসছে ইফতারির জন্য। দৃশ্যটা এতই সুন্দর লাগছিলো যে, দেখতে দেখতে আমার আর ভালো করে খাওয়া হলো না..
লেখা--শাকীর এহসানউল্লাহ
ফিজিসিয়ান'স ডাইরী- Physician's diary