হতাশাগ্রস্থ সাহাবীর গল্প
১৫ বছর বয়সী একজন হতাশাগ্রস্ত কিশোর, আমরা যাকে বলি 'ডিপ্রেশন'; ধীরগতির একটি উটে চড়ে যুদ্ধ থেকে ফিরছেন। সবাই তাকে ফেলে চলে গেছে। তিনি একা পেছনে পড়ে আছেন। আস্তে আস্তে মদীনার দিকে এগুচ্ছেন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একজন নবী, সেই বাহিনীর সেনাপতি। তিনি খোঁজ-খবর নিচ্ছেন তাঁর বাহিনীর সবাই ঠিকমতো আসতে পারছে কি-না। ঘোড়া নিয়ে চলে গেলেন বাহিনীর পেছনে। গিয়ে দেখলেন সেই হতাশাগ্রস্ত কিশোর আস্তে আস্তে পথ চলছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর নাম জিজ্ঞেস করলেন, তিনি এতোটা হতাশ কেনো প্রশ্ন করলেন।
সংসারে ঘানি টানতে টানতে নিজেকে যদি খুব অসহায় মনে হয়, খুব কম বয়সে আপনি যদি পিতৃহীন হয়ে সংসারের দেখাশোনার ভার নেন, সংসারের সুখ-সমৃদ্ধির জন্য যদি নিজের ক্যারিয়ার, পছন্দ-অপছন্দ বিসর্জন দেন, তাহলে ঐ কিশোর সাহাবীর কথা চিন্তা করুন।
তিনি মা হারান, বাবাকেও হারান। তাঁর নয়জন বোন। কয়েকজন বোন তাঁর বড়ো, কয়েকজন তাঁর ছোটো। বাবা ইন্তেকালের সময় সম্পদ রেখে যেতে পারেননি, তারউপর ঋণ রেখে যান। ছেলে হিশেবে বাবার সেই ঋণ তাঁকে পরিশোধ করতে হবে।
তাঁর বাবা যেনতেন ব্যক্তি ছিলেন না। তিনি ছিলেন উহুদ যুদ্ধে শহীদ হওয়া প্রথম সাহাবী। যার ঘটনার প্রেক্ষিতে পবিত্র কুরআনের আয়াত নাযিল হয়৷
পিতৃহারা কিশোর সাহাবীর মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ে৷ নিজেকে কিছুক্ষণের জন্য তার জায়গায় রাখুন। উপলব্ধি করুন- দুদিন হলো আপনার বাবা ইন্তেকাল করেছেন, বাবার ২ লক্ষ টাকা ঋণের বোঝা নিয়ে আপনি ঘুরছেন, পাওনাদার আপনাকে তাগাদা দিচ্ছে। ঐদিকে আপনার ৯ জন বোন। তাদের ভরণপোষণের ব্যবস্থা করতে হবে। তাদেরকে বিয়ে দিতে হবে।
হঠাৎ করে যারা বাবা হারিয়ে পরিবারের দায়িত্ব নেয়া শুরু করেন, তারা এটা উপলব্ধি করতে পারবেন। তারা বুঝতে পারবেন কতো ধানে কতো চাল!
হতাশাগ্রস্ত সাহাবীকে নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সান্ত্বনা দেন, তাকে আর্থিক সহযোগিতা করেন, তাঁর ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করেন।
সাময়িক যে সংকটের মধ্যে তিনি পড়েছিলেন, আস্তে আস্তে সেটার সমাধান হয়। সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, তিনি বয়সে কিশোর হওয়া সত্ত্বেও, পরিবারের এতো দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও ঠিকই জ্ঞানার্জন অব্যাহত রাখেন। রাসূলুল্লাহর আলেম সাহাবীদের যে ছোট্ট তালিকা আছে, সেই তালিকায় তিনি স্থান করে নেন।
সাংসারিক চাপ, দায়িত্বের চাপের কারণে কখনো ভেঙ্গে পড়ার মতো অবস্থা হলে স্মরণ করুন সেই কিশোর সাহাবীর কথা। তার সমস্যার একটা না একটা সময় সমাধান হয়, আপনি চেষ্টা করে যান, আপনারটাও হবে, ইন শা আল্লাহ।
সেই সাহাবীর নাম জাবির ইবনে আব্দিল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু।
@ আরিফুল ইসলাম ভাই