॥ ট্যাবলেট ইনসুলিনের গল্প ॥
আমি একবার এক রোগির প্রেসক্রিপশনে Inj. ইনসুলিন না লিখে Tab ইনসুলিন লিখেছিলাম৷ সেই রোগি যখন follow up ভিজিটে আসলেন, তখন সেই প্রেসক্রিপশন দেখে নিজেই লজ্জা পাচ্ছিলাম এবং হাসছিলাম৷ সেদিন হয়তো খুব দূরে নয়, যখন ইনসুলিনের আগে Inj. নয়, সবাই Tab ই লিখবে৷
মুখে খাবার ইনসুলিন আবিস্কারের স্বপ্ন মানুষের অনেক দিনের৷ চেষ্টা চলছে অনেক বছর ধরে৷ তবে কোন প্রচেষ্টাই এখন পর্যন্ত সেভাবে সফলতার মুখ দেখেনি৷ প্রধান কারণগুলোর মধ্যে ছিলো, পাকস্থলীর উচ্চমাত্রার এসিডিক পরিবেশে ট্যাবলেট ইনসুলিনের টিকে থাকা এবং সঠিক মাত্রায় সেটিকে লিভার এবং রক্তে পৌঁছানো৷
এবার University of British Columbia র একদল গবেষক এমন এক ইনসুলিন ট্যাবলেট আবিস্কার করেছেন, যেটি অতীতের ট্যাবলেটগুলোর ব্যর্থতা কাটাতে সক্ষম হয়েছে এবং আমাদের সত্যিই আশাবাদী করে তুলেছে৷
পাকস্থলীর বিরুপ পরিবেশে নষ্ট হয়ে যাওয়া এবং সঠিক মাত্রায় শোষণ ও পরিবহন না হওয়ার চ্যালেন্জ মোকাবেলা করার জন্য এই নতুন ট্যাবলেট এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যেন এটি গিলে খাওয়া না লাগে৷
ট্যাবলেটটি দাঁতের মাড়ি এবং গালের ভেতরের অংশ (cheek) এর মাঝে রেখে দিলেই এটি সরাসরি রক্তে শোষিত হয়ে পুরো ইনসুলিনই লিভারে পৌঁছে যায়, কোন অংশই নষ্ট হয়না বা ভেঙে যায়না৷
এর Absorption পুরোপুরিই rapid acting insulin এর মতো হয়৷ ৩০ মিনিটে শুরু হয়ে ২-৪ ঘন্টা পর্যন্ত কর্মক্ষম থাকে৷ ইঁদুরের উপর বহুবার পরীক্ষায় এটি প্রমাণিত হয়েছে৷
সবচেয়ে বড়ো সুখবর হলো, ট্যাবলেট ইনসুলিনটি হবে বেশ সস্তা, আমাদের দেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে৷ আরেকটি বড়ো সুবিধা হবে পরিবহনের ক্ষেত্রে৷ ইনজেকশন ইনসুলিন যেমন তাপমাত্রা মেইনটেন করে খুব সাবধানে পরিবহন করতে হয়, এটির ক্ষেত্রে সেসব ঝামেলা থাকবেনা৷ সাধারন ট্যাবলেটের মতোই এটি পরিবহন করা যাবে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে৷
আজ চেম্বারে ১২ বছরের এক রোগীর ভাই বললেন, স্যার আমার বোনের তিনবার ইনসুলিন নিতে খুব কষ্ট হয়৷ এমন কিছু কি আসবেনা, যাতে ওর এই কষ্টের অবসান হয়? দোয়া করি, এই ট্যাবলেট ইনসুলিন project যেন সফল হয় আর বিশ্বের লাখো ইনসুলিন নির্ভর মানুষের মুখে প্রশান্তির হাসি ফোঁটে৷ এছাড়া ইনসুলিনের ভয়ে যারা high diabetes বয়ে বেড়াচ্ছেন, তাঁরাও যেন সুস্থ জীবন উপভোগ করতে পারেন৷
© Dr. Ejaj Bari Choudhury
(K-54, DMC).