আযীমত ও রুখসাত কি?
শরীয়তের বিভিন্ন বিষয়ে সাধারণত দুটি দিক রয়েছে— আযীমত ও রুখসাত। দুটোই জায়েয। পার্থক্য হলো আযীমত হলো একটু কঠোর। আর রুখসাত এরচেয়ে একটু সহজ।
আকাবির-সালাফগণ সাধারণত আযীমাতের ওপর আমল করতেন। যেমন তারা হালাল-হারামের ব্যাপারে পূর্ণ সতর্কতা অবলম্বন করতেন। এমনকি আবু বকর রা. এর ঘটনা পাওয়া যায়, তিনি একবার ভুলে সদকার মাল খেয়ে ফেলার পর মুখে হাত দিয়ে বমি করে সব খাবার পেট থেকে বের করে ফেলেন। এটা হলো আযীমাতের একটি উদাহরণ। কিন্তু অন্যদের জন্য রুখসাত/ছাড় রয়েছে, তাদের জন্য এভাবে বমি করে খাবার বের করে ফেলা আবশ্যক না। তারা এর জন্য ইস্তিগফার করাই যথেষ্ট। আর আকাবির-সালাফের এসব আযীমাতের আমল দিয়ে শরীয়তের কোনো বিষয়ে একক সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে না। কারণ অপরদিকের রুখসাতের আমল কিন্তু অন্য কোনো আকাবির থেকেই সাব্যস্ত।
আমার মূল বক্তব্য এটা না, আসল কথা হচ্ছে, আকাবিরদের এসব আযীমাতের ওপর আমল করা অবশ্যই উত্তম। তবে এটার ওপর কাউকে জোর করা এবং কেউ রুখসাতের ওপর আমল করলে তাকে তিরষ্কার করার অনুমতি শরীয়ত দেয় না।
আমাদের দ্বীনে ফেরা সাধারণ ভাই-বোনদেরকে শয়তান শরীয়তের এদিকটা দিয়ে নানান ধোঁকা দেয়। স্বাভাবিক ভাবে তাদের কেউ কেউ আযীমাতের ওপর একটু বেশি আগ্রহী থাকেন, এবং রুখসাতের দিকটা না-জানার কারণে এর জন্য উলামায়ে কেরামকে পর্যন্ত ফাসেক-ফুজ্জার সাব্যস্ত করে ফেলেন।
এ জন্য আবশ্যক হলো, দ্বীনে ফেরার পর দ্বীনের বিষয়ে পরিপূর্ণ জানার আগ পর্যন্ত এ বিষয়ে চুপ থাকা। দ্বীনের বিষয়ে অভিজ্ঞ উলামায়ে কেরামclv কোনো রুখসাতী কাজকে নাজায়েয বলে না দেয়া। তিনি এ ব্যাপারে দুটো দিক জেনেই একটা গ্রহণ করেছেন।
আমি বিস্তারিত বলতে চাচ্ছি না, তবুও কেন যেন একটু বেশিই বিস্তারিত হয়ে গেল। সব বিষয় অনলাইনে লেখা যায় না, বলাও যায় না। কিছু বিষয় থাকে বুঝে নিতে হয়। অনলাইনে এই সমস্যাটা প্রায়ই দেখি, তাই কিছু লিখলাম আর কি।