গুনাহ করার পর তা প্রকাশ করা আরও মারাত্মক গুনাহ।

হাদীসের মধ্যে এসেছে, আবু হুরায়রা রা. বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, ‘আমার উম্মতের সবাইকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে; তবে ওই সব লোককে ক্ষমা করা হবে না, যারা পাপ করার পর তা অন্যের কাছে প্রকাশ করে দেয়। অন্যের কাছে প্রকাশ করার একটি দিক হলো, কোনো ব্যক্তি রাতের আঁধারে কোনো গুনাহ করল এবং মহান আল্লাহ ওই ব্যক্তির গুনাহটিকে গোপন রাখলেন। কিন্তু ভোর হলে সে নিজেই অন্য মানুষের কাছে বলল, হে অমুক! জানো, রাতে আমি এ কাজ করেছি। সারা রাত মহান আল্লাহ ওই ব্যক্তির পাপটি গোপন রাখলেন আর ভোর হওয়া মাত্রই আল্লাহর ঢেকে রাখা পাপের বিষয়টি সে ব্যক্তি নিজেই প্রকাশ করে দিল। ’ ( সহীহ বুখারি, হাদিস : ৬০৬৯)

এখনকার তরুণ-তরুণীদের যারা ফেসবুকে ‘ইন এ রিলেশনশিপ’ দিয়ে রাখেন, অথবা বন্ধু-বান্ধবদের সাথে সেটা গর্বভরে প্রকাশ করেন, গার্লফ্রেন্ডকে নিয়ে কোথাও ঘুরতে গেলে ছবি তুলে স্টোরিতে দেন, এ কাজকে গৌরবের বিষয় মনে করেন, আপনারা কি একবারও ভেবেছেন, আল্লাহ না করুন এ অবস্থায়ই যদি আপনার মৃত্যু হয়ে যায়, তাহলে প্রকাশ্যে ইন এ রিলেশনশিপ লেখাটা মুছে যেতে পারবেন? নাহয় আপনি নিজেই সাক্ষী রেখে গেলেন, আপনার রিলেশন আল্লাহ তাআলার সাথে ছিল না; ছিল অন্য কোনো নারীর সাথে। আপনি রাতের পর রাত জেগে রবের সাথে সম্পর্ক বাড়াননি; বরং এক নারীর সাথে অবৈধ সম্পর্কে মজে ছিলেন। 

উপরন্তু অবৈধ সম্পর্ক হলো জিনারই নামান্তর। হাদীসের মধ্যে আছে, কেয়ামতের একটি আলামত হলো, প্রকাশ্যে জিনা শুরু হয়ে যাবে। তাহলে আপনাদের দ্বারাই কি এই আলামত শুরু হয়ে গেল?

সমাজে যখন কবিরা গুনাহের সয়লাব হয়ে যায়, তখন আল্লাহ তাআলা তাদেরকে বিভিন্নভাবে আযাবে লিপ্ত করেন, কিন্তু তারা তা বুঝতেই পারে না। তারা মনে করে এগুলো বৈশ্বিক সমস্যা, সামাজিক সমস্যা, একদিন না একদিন ঠিক হবেই। কিন্তু সমস্যা শুধু বাড়তেই থাকে। আযাব শুধু বৃদ্ধি পেতেই থাকে।

আর যেসব লোক তাদের বন্ধু-বান্ধবদের এসব অবৈধ সম্পর্কের কথা জেনে আরও উৎসাহ দেন। পদে পদে তাদের এসব কাজে সাহায্য করেন, তারাও জিনার কাজে সহযোগিতা করার অপরাধে দুষ্ট হবেন। 

অন্তরে ভয় জাগানোর দরকার। সমাজে এত ভয়াবহ গুনাহের সয়লাব দেখেও যদি অন্তর না কাঁপে, তাহলে বুঝতে হবে আমার অন্তর মরে গেছে। 

আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন।
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url