খুশনসিব!!!
ভার্সিটি হাজারও মত-পথের এক জগাখিচুড়ি। একদিকে ডাইলখোর এসে যেমন হুজুর হয় এখানে। আবার মওলানা পাশ করে এসে বিড়িও ধরে এখানে। এ এক তেলেসমাতি জায়গা বাপু। ক্যাম্পাসে আবদুল্লাহ উন্দুলুসির বহু মিনিয়েচার পাবেন। সেই যে বহুত বড়ো এক আল্লাহর ওলি ছিলেন। এক খ্রিস্টান নারীর রূপে মজে দ্বীনত্যাগ করলেন। ১০ বছর শূকর চরালেন। মুখস্ত কুরআন ভুলে খেয়ে একটা আয়াত মনে পড়ল ১০ বছর পর। সংবিৎ ফিরে পেলেন। তবে ঝামেলাটা হলো, আব্দুল্লাহ উন্দুলুসি ছিল খুশনসিব। সবাই ফিরে আসার সুযোগ পায় না। নারীর সান্নিধ্য আর পুরুষের সপ্রশংস বিহ্বল দৃষ্টি পাওয়ার শ্যাওলায় পিছলে যায় হেথায় কত আউলিয়া। পয়লা পয়লা দাড়িটা একটু ‘সাইজ' হয়, এরপর চুলের স্টাইল দৃশ্যমান করতে বিদেয় হয় টুপি। এরপর খ্যাত পাজামার বদলে স্মার্ট জিন্স। নিচে ভাঁজ করা। একদিন ভাঁজ করতে আর মনে থাকে না। প্যাকেট ফুটো হলে চানাচুর মিইয়ে যেতে যতক্ষণ লাগে আরকি।
আবার উল্টো কাহিনীরও অভাব নেই। কত মদারু, গাঁজারু, নৃশংস ছাত্রনেতা, পাতিনেতারা সব ছেড়েছুড়ে হয়ে গেছে বরফের মতো ঠাণ্ডা, মাটির মতো নরম, আকাশের মতো উদার, পাহাড়ের মতো অটল। ‘মুমিন নাকে দড়ি বাঁধা উটের মতো,টেনে নিলে হেঁটে যাবে, বসিয়ে দিলে বসে থাকবে।'
লেখাগুলো শামসুল আরেফীন শক্তি ভাইয়ের ডাবল স্ট্যান্ডার্ড ৩ থেকে নেয়া,পড়ছি এরকমই বৈচিত্র্যময় এক ক্যাম্পাসের চেয়ার টেবিলে বসে। দীর্ঘ ছয় বছর মেডিকেল জীবনে পরিবর্তনের এই ঢেউ আশেপাশে বহুত দেখেছি, দূরে যাবো কেন নিজের মধ্যেই তো একটা ছাপ আছে এখনো।তবে ভাইয়ের ভাষায় আব্দুল্লাহ উন্দুলুসির মতো "খুশনসিব" হলেও তো আলহামদুলিল্লাহ।