জিলবাবের ওপর জ্যাকেট?

সাবধান প্রিয় বোন!!!

শীতকালে আমাদের অনেক বোনেরাই জিলবাবের ওপর জ্যাকেট বা কোট পরে থাকেন। এসব জ্যাকেট বা কোট পরার কারণে তাদের দেহের ওপরের অংশের গঠন-কাঠামো স্পষ্ট হয়ে পড়ে। জিলবাবের ওপর এভাবে জ্যাকেট পরা জায়িয নয়। কেননা, একজন মুসলিম মেয়ের কাঁধ, বুক, বাহু এবং পিঠ সবই ‘আওরাহ’, যা অবশ্যই ঢেকে রাখতে হবে। শুধু ত্বক নয়, আকৃতি ও আকারেও। খিমারের ওপর জ্যাকেট বা কোট পরা খিমারের উদ্দেশ্যকে (দেহের ওপরের অংশের অবয়ব লুকিয়ে রাখাকে) বাধাগ্রস্ত করে।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন—
وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَىٰ جُيُوبِهِنَّ
“…এবং তারা যেন তাদের মাথার ওড়না বক্ষদেশে ফেলে রাখে…” (তরজমা, সূরা নূর, আয়াত নং-৩১, আংশিক)

এই আয়াতের তাফসীরে ইমাম ইবনু কাসীর রাহিমাহুল্লাহ বলেন—
“অর্থাৎ, তারা বাহিরে কেবল এমন পোশাক-ই পরিধান করবে, যাতে তাদের বুক ও পাঁজর ঢেকে থাকে। এতে করে তারা জাহিলি যুগের মহিলাদের থেকে পৃথক হয়ে যায়, যারা এমনটি করত না।” [তাফসীর ইবনু কাসীর]

ইমাম ইবনু আবদিল বার রাহিমাহুল্লাহ বলেন—
“যে সকল পোশাক পরিধান করলে (নারীদের) দেহের অবয়ব স্পষ্ট বোঝা যায়, সেগুলো পরিধান করা কোনো অবস্থাতেই জায়িয নয়। সেগুলোর ওপর অন্য কোনো পোশাক—যেটি দেহের অবয়ব গোপন রাখে—সেগুলো পরলে ভিন্ন কথা। কারণ, যে ব্যক্তি এমন পোশাক পরিধান করে—যেটাতে তার দেহের অবয়ব স্পষ্ট বোঝা যায়—প্রকৃতপক্ষে সে কাপড় পরেও উলঙ্গ। যেমনটি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।” [আল-ইস্তিদকার, ৮/৩০৭]

সুতরাং বোনেরা! আপনারা যারা জিলবাবের ওপর জ্যাকেট পরে থাকেন, তারা জ্যাকেটের ওপর চাদর জাতীয় কিছু পরে নেবেন। অন্যথায় আপনার পর্দা লঙ্ঘন হয়ে যাবে।

শাইখ আহমাদ মূসা জিবরীল হাফিযাহুল্লাহ-এর একটি আর্টিকেল অবলম্বনে লিখিত।
#FightAgainstFahshaa
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url