সমস্যাটা শোভাযাত্রায় নয়, মঙ্গলে।
আনন্দ শোভাযাত্রা কী করে মঙ্গল শোভাযাত্রা হয়ে গেল!
যে মঙ্গল শোভাযাত্রা মাত্র ত্রিশ বছর আগেও আনন্দ শোভাযাত্রা ছিলো, সেটা কী করে আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্য ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ হয়ে গেল!
যাঁরা নিজেকে বিজ্ঞানমনস্ক প্রমাণ করতে সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বে বিশ্বাস করে না, কিংবা সৃষ্টিকর্তা মানুষের মঙ্গল বা অমঙ্গল কিছুই করতে পারেনা— এমন ধারণা পোষণ করে; তাঁরা কী করে আবার বিশ্বাস করে নতুন বর্ষ বরণে মঙ্গল শোভাযাত্রায় সাপ, ব্যাঙ, হুতোম প্যাঁচা, রাক্ষস, হনুমানরা জাতির জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে?
মুক্তমনা আর উদার সম্প্রীতির নামে এক ধর্মের কৃষ্টি কালচার সব ধর্মের লোকের উপর চাপিয়ে দেয়া ভণ্ডামি ছাড়া আর কিছুই নয়। কিছু হইলে বলে এটা আমাদের বাঙালি সংস্কৃতি; কোনো ধর্মের সংস্কৃতি না। বাঙালি সংস্কৃতির উৎস কোত্থেকে এলো? এই ভূখন্ডে তো দীর্ঘ আটশ বছর ধরে মুসলমানরাও বাস করে আসছে, তাহলে মুসলমানদের কৃষ্টি কালচারের কোনটাই কেন যোগ হলো না বাঙালি সংস্কৃতিতে?
একজন বিজ্ঞানের ছাত্র হিসেবে আমার জানা নেই, এই ধরনের পাগলামি আদোও কারো মঙ্গল বয়ে আনতে পারে কীনা। বরং স্পষ্টত হনুমান, হুতোম প্যাঁচা কাঁধে নিয়ে মঙ্গলের উদ্দেশ্য শোভাযাত্রা এসব ধর্মের সাথে সাংঘর্ষিক। মুসলিম ধর্মের মানুষেরা মনে প্রাণে বিশ্বাস করে একমাত্র আল্লাহ ব্যতিত আর কারো পক্ষেই মঙ্গল-অমঙ্গল বয়ে আনার ক্ষমতা নাই। কেউ আল্লাহ ব্যতিত অন্যকোনো প্রাণীর উপর মঙ্গল-অমঙ্গলে ক্ষমতাধর— এই বিশ্বাস রাখলে তার ঈমান থাকবে না।
চৌদ্দশ বছর ধরে দৈনিক পাঁচবার মোয়াজ্জেম মসজিদ মাইকে হ্যাইয়া আলাল ফালাহ অর্থাৎ মঙ্গলের দিকে এসো বলে আহ্বান করছে। এরপরও কী আমাদের ঘটা করে বর্ষে বরণে একদিন হুতোম প্যাঁচা, হনুমান আর রাক্ষসদের কাছে মঙ্গল খোঁজার কোনো কারণ আছে?
