সাদা এপ্রোন-৫

 সাদা এপ্রোন পার্ট ৫

_

ভাইটি নামাজে খুব কাঁদছিলেন। এই কান্না কোন অভিনয় ছিলো না। এই কান্না হককে উপলদ্ধির কান্না, নিজের অতীতের জন্য অনুশোচনার কান্না। সেদিন হোস্টেল মসজিদের দু'তলায় নামাজের কাতারে আমিও ছিলাম। জামাতটি এসেছিলো চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ইউনিভার্সিটি থেকে। ভাইটি ওখানে পড়েন। তিনি কিছুদিন আগেও নাস্তিক ছিলেন। সদ্য অন্ধকার থেকে আলোয় ফিরেছেন কিছু দরদী দাঈ'র আন্তরিক প্রচেষ্টায়। নাস্তিকতা থেকে ফেরা এমন অনেককেই আমি দেখেছি। বিশ বছরের অধিক একটা সময় দাওয়াতের কাজে জড়িত থাকার সুবাদে এমন অনেকের সাথে দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিভিন্ন সময়ে গাশত করতে গিয়ে সংশয়-সন্দেহে পতিত কতজনের সাথেই না আলোচনা, তর্ক-বিতর্ক হয়েছে। এই লম্বা সময়ের অভিজ্ঞতা থেকে তৈরি হয়েছে নাস্তিক ও নাস্তিকতা সম্পর্কে আমার নিজস্ব একটা ভিউ। 


কয়জন মানুষই বা ভালো করে পড়ে, বুঝে নাস্তিক হয়? নাস্তিকদের কয়জনের অবস্থান এ সম্পর্কে বিস্তারিত পড়াশুনা ও পর্যবেক্ষণের পর? নাস্তিক হওয়ার পেছনে আকলের দাসত্ব এবং প্রবৃত্তির দাসত্বের মাঝে কোনটির ভূমিকা বেশি? আমার মনে হয়েছে অধিকাংশই আকলের উপর প্রবৃত্তির প্রাধান্যের কারনেই নাস্তিক হয়। তাদের প্রবৃত্তি তাদের আকলকে নিয়ে খেলে। কিন্তু প্রবৃত্তির এই খেলা এতটাই সুক্ষ্ম, তারা তা উপলদ্ধি করতে পারে না। তারা তাদের সিদ্ধান্তটিকে আকলের কনক্লোশন মনে করে, কিন্তু বাস্তবে তা তাদের প্রবৃত্তিরই খেল। তাই যখনই কোন কারনে প্রবৃত্তির এই প্রাবল্য প্রশমিত হয়, তাদের আকলের উপর প্রবৃত্তির এই দখল হালকা হয়, তখন আকল তার স্বাভাবিক গতিতে কাজ শুরু করে, এক পর্যায়ে নিজের সিদ্ধান্তের অসারতা তার নিজের কাছেই স্পষ্ট হয়ে যায়।


ধরা যাক, একজন খুব পড়ে, বুঝে নাস্তিক হয়েছে। এখন যদি আপনি পাল্টা যুক্তি, তত্ত্ব এবং তথ্য দিয়ে তাকে পরাভূত করতে পারেন, যদি বুঝাতে পারেন তার অবস্থানের ভিত্তি নিতান্তই দূর্বল, সে সৎ হলে সহজেই ফিরে আসবে। কিন্তু যারা নাস্তিক হয়েছে প্রবৃত্তির দাসত্ব থেকে, প্রবৃত্তির লাগামহীন খাহেশাত চরিতার্থ করতে গিয়ে নাস্তিকতাকে কেবল সে একটা অবলম্বন হিসেবে গ্রহন করেছে, তাকে হাজারো যুক্তি, তত্ত্ব, তথ্য দিয়ে ফেরানো যাবে না। সে এক পয়েন্টে হেরে আরেক পয়েন্ট সামনে নিয়ে আসবে, ঘুরে ফিরে নিজেকে নিজের অবস্থানে ধরে রাখতে সচেষ্ট থাকবে । তার প্রবৃত্তি তাকে পরাজিত হতে দেবে না। এটি মোটেই তার বুঝ বা জ্ঞানের গভীরতার কারনে নয়, কেবলই প্রবৃত্তির দাসত্ব ধরে রাখার এক প্রবণতা থেকে। 


এই ধরনের এক জুনিয়রের সাথে একবার আমার কথা হচ্ছিলো। স্কুলে তার পজিশন খুব ভালো ছিলো না। পড়াশুনায় একদম পেছনের সারির না হলেও মাঝারি ক্যাটাগরিরই ছিলো।  এমনিতেই বেসিক সায়েন্স ও ম্যাথের উপর আমাদের দখল কমই থাকে! স্বাভাবিকভাবে তার অবস্থাও এর ব্যতিক্রম ছিলো না। তার সাথে আমার তর্ক হচ্ছিলো। তার ফিরতি জবাবগুলো শুনে আমার বুঝতে অসুবিধা হচ্ছিলো না বেসিক সায়েন্সে তার দখল কতটুকু।  কিন্তু আমি দেখছিলাম কিভাবে সে প্রসঙ্গের পর প্রসঙ্গ পরিবর্তন করে নাস্তিক সেলিব্রেটিদের বিভিন্ন লেখা থেকে ধার করা বিভিন্ন বেপরোয়া উক্তি করে যাচ্ছিলো, যা বিতর্কের স্বাভাবিক গতি অনুসরণ করে নয়।  মনে হচ্ছিলো ইসলামের প্রতি বিদ্বেষমূলক এই সব পয়েন্ট তুলে ধরতে পেরে সে এক ধরনের বিকৃত স্বাদ অনুভব করছে। তার মাঝে না ছিলো সত্য কবুলের আগ্রহ, না ছিলো সততা।

আমাদের দেশের ছাত্রছাত্রীদের অধিকাংশই যে কোন বিষয়ে গভীর ও বিস্তৃত স্টাডি করে খুবই কম। পেশাগত জীবনে যতটুকু প্রয়োজন হয় এর বাইরে খুব বেশি বিস্তৃত অধ্যয়নের সুযোগ সবার হয় না। আমাদের ডাক্তারদের একটু বেশি পড়তে হয়, সারাজীবন পড়তে হয় - এমন একটা কথা প্রচলিত আছে। কিন্তু এই পড়াশুনাও কিন্তু ঠেকায় পড়ে, পেশাগত প্রয়োজনে, না পড়ে উপায় থাকে না বলে। দুয়েকজন ব্যতিক্রম তো সবসময়ই থাকেন। 


আজ নাস্তিকতা যে সব পয়েন্টকে মূল ধরে আগাতে চাচ্ছে তা কোয়ান্টাম ফিজিক্সই হোক কিংবা ইভোলিউশন থিওরী,  এর প্রত্যেকটিই গভীর, সিস্টেমিক, বিস্তৃত অধ্যয়নের দাবী রাখে। কেবল ভাসা ভাসা দু'চারটা বই বা লিটারেচার পড়ে নিয়েই একটা ইনফারেন্স টানা, অন্তত স্রষ্টা থাকা না থাকা টাইপ কনক্লোশন টানা এতো সহজ নয়। কেন সহজ নয় সংক্ষেপে বলি। প্রথমত স্রষ্টা থাকা না থাকা এটি  কোয়ান্টাম ফিজিক্স বা ইভোলিউশন থিওরী কোনটারই আলোচ্য বিষয় নয়।  প্রশ্ন হবে, তাহলে এর ভিত্তিতে এই প্রশ্ন উঠে আসে কি করে! উত্তর ঘুরে ফিরে ঐ আগেরটি, প্রবৃত্তি তাকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে এখানে নিয়ে যায়, যাওয়ার পথটি অমসৃণ এবং অসম্ভবের কাছাকাছি পর্যায়ের জটিল হওয়া সত্ত্বেও জোর করে প্রবৃত্তি তাকে ওখানে নিয়ে যেতে চায়। 


আস্তিকতা নাস্তিকতা একটা পুরাতন বিতর্ক। যেদিন থেকে 'নফস' 'খোদা' হতে চাওয়ার ইচ্ছে করতে  শুরু করেছে, সেদিন থেকেই এই বিতর্কের শুরু। যা সৃষ্ট, তার একজন স্রষ্টা থাকবেই একদিকে এই সুস্পষ্ট সত্য, এর বিপরীতে স্রষ্টা ছাড়াই এই বিশ্বজগত সৃষ্টি হয়েছে তা প্রমাণ করার ব্যর্থ চেষ্টা। দৃঢ়ভাবে যেহেতু তা প্রমাণের পথ বন্ধ, তাই এর বিকল্প বা কাছাকাছি কিছু  প্রমান করতে পারলেও তারা খুশি।  যদি কেবল এতটুকু বলা যায় "স্রষ্টা সৃষ্টি করেছেন, এটি যেমন একটি সম্ভাবনা, স্রষ্টা ছাড়াও বিশ্বজগত সৃষ্টি হওয়া সম্ভব এটিও একটি সমান সম্ভাবনা।"  তাই যখন কোন বৈজ্ঞানিক থিওরী থেকে ঠিক এই ধরনের কোন অনুসিদ্ধান্তের নাগাল তারা পায় একেবারে লাফিয়ে উঠে।  স্টিফেন হকিং যখন দ্য গ্রান্ড ডিজাইন বইয়ে কোয়ান্টাম ফিজিক্সের উপর ভিত্তি করে অংকের কঠিন মারপ্যাঁচ শেষে বলেন, কোয়ান্টাম ফিজিক্সের ভিত্তিতে স্রষ্টা ছাড়াও বিশ্বজগত সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাব্যতা ব্যাখ্যা করা যায়, তখন তারা এটিকে অকাট্য প্রমান জ্ঞান করে একেবারে  ময়দানে অবতীর্ণ হয়। কিন্তু অংকের এই কঠিন মারপ্যাঁচ তারা নিজেরা আদৌ বুঝে নিয়েছে, নাকি নিজের প্রবৃত্তির চাহিদার সাথে মিলে যাওয়ার কারনে তার অন্ধ উচ্চারণ শুরু করে দিয়েছে মাত্র। দুয়েকজন না হয় বুঝে চিল্লানো শুরু করলো, কিন্তু বাকীরা?  কারণ যে অঙ্ক নিজেই হিসাব কষে বুঝে নেয়া সম্ভব হয় না, তার উপর নির্ভর করে আত্মিক প্রশান্তি কখনোই অর্জিত হওয়ার নয়। আর যদি হয়ও, শেষ পর্যন্ত প্রবেবিলিটির দুই প্রান্ত কেবল সমান হলো, উভয়টির মাঝে একটিকে প্রাধান্য দেয়ার মীমাংসাকারী কই? শেষ কথা, এর দ্বারা তাদের আল্টিমেট লক্ষ্য অর্জিত হয় না। কিন্তু প্রবৃত্তির ঘোড়াকে সন্তুষ্ট করার একটা অবলম্বন তারা খুঁজে পায় বৈকি! 


সম্ভাবনা তাহলে কেবল দুটি। স্রষ্টা বিশ্বজগত সৃষ্টি করেছেন, স্রষ্টা ও সৃষ্টি - এই সহজ যোগসুত্র, এর বিপরীতে আরেকটি সম্ভাবনা - স্রষ্টা ছাড়াও সৃষ্টি হওয়া সম্ভব। কিন্তু কোনটি আসলে হয়েছে?  এটি অতীত।  সুত্র দিয়ে বা অঙ্ক কষে প্রমাণ করার জিনিস নয়।


বিবর্তনবাদ নিয়েও একই কথা। বিবর্তনবাদীরা ঠিক একই ধরনের একটা অনুসিদ্ধান্ত টানতে চায় যে, "স্রষ্টা ছাড়া বিবর্তনবাদের মাধ্যমেও মানুষের উৎপত্তি হতে পারে"। কিন্তু এভাবেই মানুষের উৎপত্তি হয়েছে এ কথা নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করা কঠিন।  সর্বোচ্চ কেবল এতটুকু  দুই সম্ভাবনার পাল্লা সমান বা কাছাকাছি দাবী করার একটা সুযোগ সৃষ্টি হওয়া । বিবর্তনবাদ টিকে গেলে কেবল এতটুকু বলা যাবে যে স্রষ্টা ছাড়াও মানুষের উৎপত্তির ব্যাখ্যা দেয়া যায়। এর মাধ্যমে প্রবৃত্তিপুজায় একটু বাতাস করা গেলে তো লাভই হলো! 


সোজাকথায় কোন প্রবৃত্তিপুজারী নাস্তিককে আপনি শুধু তাত্ত্বিক খন্ডনের মাধ্যমে নাস্তিকতা থেকে ফেরাতে পারবেন না। বাকী রইলো তাত্ত্বিক খন্ডনের আবশ্যকতা। এই আবশ্যকতা কেউ অস্বীকার করবে না। 


আমার এক স্যার ছিলেন। ছাত্রজীবনে একবার তিনি নাস্তিক হয়ে গিয়েছিলেন। ফলে হালাল-হারামের সব ধরনের বাছবিচার ছেড়ে দিয়েছিলেন। ধর্মকে বিসর্জন দিতে চেয়েছিলেন জনমের মতো। কিন্তু সৌভাগ্যক্রমে তিনি এক মোল্লার হাতে পড়েছিলেন। মোল্লা কি তাকে তাত্ত্বিক খন্ডনের মাধ্যমে ফিরিয়েছিলেন?  মোটেই নয়। মোল্লার বিশ্বাসের দৃঢ়তা, চারিত্রিক পরিশুদ্ধি, ইখলাস, দিলভরা দরদের আহবান তিনি উপেক্ষা করতে পারেন নি।  ঐ আলিম তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, " তুমি কি প্রিন্সেস জরিনার নাচ দেখেছো? ' তখন প্রিন্সেস জরিনার নাচ বড় বিখ্যাত। স্যার স্বাভাবিকভাবেই হ্যাঁ শব্দে জবাব দিয়েছেন। তিনি বললেন, " তোমার তা কেমন লাগে? ' স্যার বললেন, খুব ভালো লাগে। মোল্লা বললেন, খুব ভালো লাগাটা কেমন?  খুব ভালোলাগা ব্যাখ্যা করার জন্য আর কোন শব্দ স্যারের ভান্ডারে ছিলো না। স্রষ্টার স্রষ্টা কে? এ চক্র ভাঙ্গার জন্য ঐ আলিম এই উদাহরণের অবতারণা করেছিলেন।


স্যার আমাদের বলেছেন, ' আমি এর চাইতে কঠিন পর্যায়ের তর্ক এই টপিকে করেছি। কিন্তু সেদিন হুজুরের চোখের দিকে তাকিয়ে আর কিছু বলার শক্তি আমি খুঁজে পাই নি। সব ধরনের পাল্টা যুক্তির বদলে কেমন যেন লজ্জা, অনুশোচনা আমাকে চেপে ধরেছিলো। আমার মনে হতে লাগলো, তাঁর অন্তরের ইস্পাতকঠিন এই দৃঢ়তার মুকাবিলা করার মতো সাহস ও শক্তি আমার দূর্বল অন্তরে নেই। আমি বললাম, হুজুর!  আমাকে কালিমা পড়ান, আমি তাওবা করছি।'


 নাস্তিকতা থেকে ফিরে আসা এমন ভাইদের সাথে কথা বলে দেখেছি, তাদের সিংহভাগই তাত্ত্বিক কোন খন্ডনের কারনে ফিরেছেন এমন নন। তাত্ত্বিক খন্ডন হয়তো পরবর্তীতে প্রশান্তি যুগিয়েছে, কিন্তু ফেরার মূলে বিশ্বাস ও চরিত্রের দৃঢ়তাসম্পন্ন  মুখলিস দাঈগনের বারংবার দিলভাঙ্গা আহবান। সেখানে যুক্তির চেয়েও কল্যানকামিতা ও দিলের দরদের ভূমিকা বেশি ছিলো। নিজের অভিজ্ঞতায়ও দেখেছি, এই ধরনের সঙ্গীন মূহুর্তগুলোতে যখনই 'ইন্নাকা লা তাহদী মান আহবাবতা' অন্তরে জাগরুক থেকেছে, ফলে নিজের তাত্ত্বিক আলোচনাগুলোকে আল্লাহপাকের ইচ্ছার সামনে নিস্ক্রিয়,অসহায় মনে হয়েছে, সেখানেই দাওয়াত প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয়েছে। আর যেখানেই দিল হাকীকত থেকে গাফেল ছিলো, সেখানে সুন্দর তাত্ত্বিক আলোচনাও কোন উপকার করে নি। 


ফিরে আসার কাহিনীগুলোতে বরাবরই নীচের বিষয়টি কমন। জীবনে অপ্রত্যাশিত কোন ধাক্কা, বা কোন প্রিয়জনকে হারানোর মূহুর্ত কিংবা কোন আল্লাহওয়ালার কাঙ্ক্ষিত বা অনাকাঙ্ক্ষিত সাহচর্য, অথবা মুজাহাদাপূর্ণ খালিস দ্বীনি দাওয়াতের কোন কাফেলায় সামান্য সময় অতিবাহিত করার বরকতে যখনই প্রবৃত্তির লাগাম কিছুটা হলেও হালকা হয়েছে, অথবা আকল কিছুটা হলেও প্রবৃত্তির দখল থেকে মুক্ত হয়েছে, তখনই আকল ফিরে পেয়েছে ভাবনার সঠিক গতিপথ। খুব কম সময়েই সে ফিরে এসেছে নাস্তিকতা থেকে।  হঠাৎ ক্যাম্পাস থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে বিড়াতিত হওয়ার ধাক্কায় নাস্তিকতার ভুত ছাড়তে তো আমরা নিজের চোখে দেখেছি। তবে বাস্তবেই তারা নাস্তিক ছিলো কিনা সেটি অন্য প্রশ্ন। প্রকৃতই কেউ আসলেই নাস্তিক হতে সক্ষম কিনা তা আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। তবে ধাক্কা খেলে অনেকেই ফিরে আসে, আসতে বাধ্য হয়। সব দৃঢ়তায় একদিন চিড় ধরে। 


মুসলিম পরিবারের ছেলে নাস্তিক হয় কেন? হবে না'ই বা কেন? যখন শৈশবে ঈমানের সঠিক তারবিয়াত হয় নি, আখিরাতের অনিবার্য বিষয়গুলো হৃদয়ে পোক্ত হয়ে গাঁথে নি, তখন বয়ঃসন্ধিকালের সেই বিদ্রোহী মূহুর্তে যখন শরীয়তের নানা হুকুম কেবল প্রবৃত্তির উত্থাল ঘোড়াকে থামাতে চেয়েছে, তখন স্বাভাবিকভাবেই দ্বীন হয়ে উঠেছে অপ্রিয়। চারপাশে যখন কেবল ভোগ করার,  প্রবৃত্তির লাগামহীন চাহিদা মেটানোর উন্মুক্ত হাতছানি, তখন ধর্মের এই অর্গল স্বাভাবিকভাবেই অপ্রিয়, অযৌক্তিক মনে হবে। সময়ের আবর্তনে প্রবৃত্তির চাহিদার কেবল ব্যাপ্তি বেড়েছে, মন হয়ে পড়েছে আরও বিদ্রোহী, তাই এক পর্যায়ে বাধা সরানোর সামান্য খড়কুটোও হয়ে পড়েছে অবলম্বন। প্রবৃত্তির লালায়িত জিহ্বা আকলকে করে ফেলেছে অকেজো।  প্রবৃত্তির এই লাগামহীন চাহিদাই যখন নাস্তিকতার আঁতুড়ঘর, তখন স্বাভাবিকভাবেই তার প্রশমনই হবে এই ভুত ছাড়ানোর উপায়।  যেখানেই তা ধাক্কা খাবে, যেখানেই অনুভব হবে জীবনের রূঢ় বাস্তবতা, সেখানেই প্রবৃত্তির প্রভাববিহীন আকলের সঠিক চিন্তা তাকে মূহুর্তেই বের করে আনবে অবিশ্বাসের অন্ধকার থেকে। যে গতিতে সে অন্ধকারের দিকে ছুটছিলো, একশ' আশি ডিগ্রী ঘুরে এর চেয়ে তীব্রগতিতে সে ফিরবে আলোর দিকে।


-মুফতি ডা. মাসীহুল্লাহ ভাই

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url