লোন নেওয়া বা ধার নেওয়া কি হারাম?

না, এতে কোনো সমস্যা নেই। বরং কেউ যদি ধার দেয় (সুদ বাদে, কর্জে হাসানাহ) তাহলে সে রোজ সমপরিমাণ অর্থ দান করার সওয়াব পেতে থাকবে যতদিন না সে লোন এর টাকা ফেরত পাচ্ছে।
অন্যদিকে ধারদেনা থেকে মুক্তির জন্যেও দুআ আছে। তাহলে এটা স্পষ্ট যে লোন দেওয়া বা নেওয়া হারাম না।

কিন্তু পয়েন্ট হলো সুদে লোন নেওয়া- দেওয়া দুইটাই হারাম। এই হারামের মাত্রা এমন যে নিজ মায়ের সাথে ব্যাভিচার করার চেয়েও বেশি খারাপ গুনাহ এটা। স্বয়ং আল্লাহ আর তাঁর রসুল স. এর সাথে যুদ্ধের মতন ব্যাপার এটা।

৹সমাজের মানুষ কেনো লোন নেয়?
-নানা প্রয়োজনে, বিপদে আপদে

৹কেন সুদে লোন নেয়?
-এর একটা বড় কারণ অবশ্য কেউ কর্জে হাসানাহ দিতে চায় না। 

৹কেন চায় না?
-কারণ অনেকেই আসলে লোন নিয়ে ঠিক মতন লোন ফেরত দেয় না।

৹তাহলে করনীয় কি?
-উভয়দিক থেকেই করনীয় আছে। 
  • যারা লোন নিবে, তারা দায়িত্বশীল আচরণ করবে। সময় মতন লোন শোধ দেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে, একই সাথে কোনো সমস্যায় দেরী হলে সেটাও লোন দাতার সাথে সুন্দর ভাবে কথা বলে জানিয়ে রাখবে। এতে করে তিক্ততা সৃষ্টি হবে না ইন শা আল্লাহ। কিন্তু অনেকেই ফোন ধরে না, যোগাযোগ রাখে না এমন আচরণ করলে আসলেই কেউ ধার দেওয়ার সাহস পাবে না।
  • অন্যদিকে যারা লোন দিবে তারা আল্লাহর কাছে প্রতিদানের আশায় কিছুটা নমনীয় হতে পারে, কর্জে হাসানাহ দেওয়ার মানসিকতা রাখতে হবে। আরেক মুমিনের বিপদে এগিয়ে এলে আল্লাহও তার বিপদে এগিয়ে আসবেন।

কিন্তু অনেকে আছে বিলাসিতার জন্য সুদে লোন নেয়। সুদে লোন নিয়ে বাড়ি করা, গাড়ি কেনা, এগুলোর জন্য আসলে কোনো এক্সকিউজ আদৌ আসবে কিনা আমার জানা নেই, না থাকারই কথা। বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্যেও লোন দেয় আজকাল ব্যাংক গুলা। বিয়েতে অনর্থক খরচের জন্য সুদে লোন নেওয়া আরেকটা ভুল কাজ।
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url