সাহাবীদের যুগে স্কলারশিপের ব্যবস্থা
সাহাবীরা জ্ঞানার্জনে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে স্কলারশিপের ব্যবস্থা করেন। জ্ঞানার্জন না করে ঐসময় ব্যবসা, চাকরি করলে টাকা পাওয়া যেতো। জ্ঞানার্জনে সময় দিলে ঘর-সংসার চলবে কিভাবে?
এই দুশ্চিন্তার কারণে মানুষ যাতে জ্ঞানবিমুখ না হয়, মানুষজন যেনো পূর্ণ মনোযোগের সাথে জ্ঞানার্জন করতে পারে সেজন্য উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু স্কলারশিপের ব্যবস্থা করেন।
উমর ইবনুল খাত্তাব কয়েকজন গভর্নরকে লিখেছিলেন,
“তোমরা লোকদেরকে কুরআন শেখার জন্য ভাতার ব্যবস্থা করো।”
গভর্নররা জানালো,
“কিন্তু, এতে করে তো এমন লোকজন কুরআন শিখবে, যারা শুধুমাত্র টাকার লোভে কুরআন শিখতে আসবে।”
উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন,
“তাহলে তাদেরকে কুরআন কারীমের মর্যাদা ও আত্মমর্যাদাবোধ সাহাবী হবার কারণে ভাতা দাও।”
খলিফার কথামতো তাই করা হলো। শিক্ষার্থীরা কুরআন শিখতে আসতো, কুরআন শেখার পর স্কলারশিপ পেতো।
উমর ইবনুল খাত্তাবের যোগ্য উত্তরসূরি উমর ইবনে আব্দিল আযিয রাহিমাহুল্লাহও একই নীতি চালু করেন। তিনি বলেন,
“শিক্ষার্থীদের জন্য ভাতা জারি করে তাদেরকে জ্ঞানার্জনে উদ্বুদ্ধ করো।”
বর্তমানে ইউরোপ-আমেরিকার কলেজ-ভার্সিটিতে স্কলারশিপ দেখলে মনে হয় এগুলো বুঝি তারাই চালু করেছে। অথচ ইসলামের স্বর্ণযুগে এই ব্যবস্থা ছিলো। জ্ঞানার্জনে উদ্বুদ্ধ করার জন্য স্কলারশিপ দেয়া হতো। খলিফাগণ এই ব্যাপারে সোচ্চার ছিলেন।